বাইশ কাব্য
বাইশ বছর আগের কথা, মাথায় ছিল চুল,
এখন আয়নায় মুখ দেখলে ভাঙছে চোখের ভুল।
বাইশ টাকা পকেটে নিয়ে যেতাম যখন হাটে,
রাজার মতো চাল ছিল মোর গ্রামের মেঠো পথে।
বাইশ বার প্রেমে পড়েও মেলেনি কোনো কনে,
শেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো অনেক বড় মনে।
বাইশটি মাস পার না হতেই ঘুচল সব সুখ,
গিন্নির হাতে ঝাটা দেখে শুকিয়ে যায় মুখ।
অফিস ঘরে ফাইলের স্তূপ, বাইশটি ফাইল বাকি,
বস ডাকলে মনে হয় দিই একটা লম্বা ফাঁকি।
বাইশ চিমটি নুন পড়েছে ডালটাতে আজ হায়,
খেতে বসলে গিন্নির বকুনি কেবা সিতে চায়?
বাইশটি রোগ শরীরে আজ বাঁধছে বাসা নিত্য,
ডাক্তার বলে শাক-সবজিই এখন পরম বিত্ত।
বাইশ পা চলতেই দেখি হাঁপিয়ে ওঠে বুক,
মিষ্টির দোকানে তাকালেই বাড়ে বড়ই দুখ।
বাইশটা দাঁত এখনো আছে, বাকিটা সব ফাঁপা,
হাসলে পরে লুকানো যায় না কষ্টের ওই চাপা।
বাইশ চরণে শেষ হলো এই হেসো-রাশির গান,
পড়লে পরে বাড়বে আপনার হাস্য-রস আর মান।
বাইশটি পঙক্তি গুনে দেখুন, নেই একটিও কম,
বেশি হলে গিন্নি আমার দেখাবে আজ যম!