রম্য অণুগল্প: চশমা-রহস্য ও সাহিত্য-সাধনা
সেদিন দুপুরবেলা সবেমাত্র আয়েশ করে একটা কবিতার খাতা খুলে বসেছি, এমন সময় গিন্নি এসে হাজির। হাতে একটা ঝকঝকে নতুন কাঁসার থালা।
“ওগো, একটু শোনো তো! এই থালাটায় কী লেখা আছে পড়তে পারছ?”
আমি গম্ভীর মুখে চশমাটা নাকে চড়িয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। কিন্তু একি! অক্ষরগুলো সব যেন কুয়াশার মধ্যে সাঁতার কাটছে। এপাশ ওপাশ করে দেখলাম, মাথাটা এদিক-সেদিক হেলিয়েও কিছু বোঝা গেল না। ভাবলাম, হয়তো বয়সের দোষে দৃষ্টিশক্তি একটু ‘কাব্যিক’ হয়ে উঠেছে।
গিন্নি এবার টিপ্পনী কাটলেন, “কী হলো? অত বড় কবি মানুষ, আর সামান্য একটা নাম পড়তে পারছ না? ওটা তো তোমার বড়দার নাম লেখা আছে!”
আমি দমবার পাত্র নই। বললাম, “আরে বাবা, এটা কি আর পড়ার ভুল? এটা হলো আধুনিক বিমূর্ত শিল্পের নিদর্শন। শিল্পীরা যেমন ক্যানভাসে রং ছিটিয়ে দেয়, এই থালায় খোদাই করা নামটাও ঠিক তেমনি এক রহস্যময় ব্যঞ্জনা তৈরি করেছে।”
গিন্নি হাসতে হাসতে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন। ঠিক তখনই খেয়াল হলো, আমি আসলে নিজের চশমাটা না পরে ভুলে ছেলের পড়ার টেবিল থেকে ওর পাওয়ারহীন ফ্রেমটা পরে বসে আছি!
বুঝলাম, সাহিত্য চর্চার আগে সঠিক ‘দৃষ্টিকোণ’ বা অন্তত সঠিক ‘চশমা’টা খুঁজে পাওয়া খুব জরুরি। না হলে চ্যালাকাঠকে চন্দনকাঠ ভেবে কবিতা লিখে ফেলাও বিচিত্র নয়।