স্যার ফিলিপ সিডনি (Sir Philip Sidney, 1554–1586)
১. অ্যাস্ট্রোফিল অ্যান্ড স্টেলা – সনেট ১ (Loving in truth)
সত্যিকার প্রেমে, কবিতায় প্রকাশ করতে চাই আমার ভালোবাসা,
যাতে সে, প্রিয় সে, আমার যন্ত্রণায় কিছু আনন্দ পায়—
আনন্দ তাকে পড়তে প্ররোচিত করবে, পড়া তাকে জানতে দেবে,
জ্ঞান করুণা জাগাবে, করুণা কৃপা এনে দেবে—
আমি খুঁজেছি উপযুক্ত শব্দ দুঃখের কালো মুখ আঁকতে;
অভিনব উদ্ভাবন দিয়ে তার বুদ্ধিকে বিনোদন দিতে,
প্রায়শই অন্যের পাতা উল্টে দেখি—যদি সেখান থেকে বর্ষিত হয়
কিছু তাজা ও ফলপ্রসূ বৃষ্টি আমার রোদে পোড়া মস্তিষ্কে।
কিন্তু শব্দ এল খোঁড়াতে খোঁড়াতে, উদ্ভাবনের স্তম্ভ ছাড়া;
উদ্ভাবন, প্রকৃতির সন্তান, পালিয়ে গেল ধাপ-মা অধ্যয়নের আঘাতে;
আর অন্যদের চরণগুলো এখনো অপরিচিত বলে মনে হল পথে।
এভাবে কথা বলার জন্য গর্ভবতী হয়ে অসহায় যন্ত্রণায়,
আমার অবাধ্য কলম কামড়ে, নিজেকে ঘৃণায় মারতে মারতে,
“বোকা,” বলল আমার মিউজ আমাকে, “তোমার হৃদয়ের দিকে তাকাও, আর লেখো।”
২. ছেড়ে দাও আমাকে, হে প্রেম (Leave me, O Love, which reachest but to dust)
ছেড়ে দাও আমাকে, হে প্রেম, যা শুধু ধুলো পর্যন্ত পৌঁছায়,
আর তুমি, আমার মন, উচ্চতর জিনিসের দিকে আকাঙ্ক্ষা করো;
সেই সম্পদে ধনী হও যা কখনো মরিচা ধরে না,
যা ক্ষয় হয় তা শুধু ক্ষয়মান আনন্দই নিয়ে আসে।
তোমার রশ্মি গুটিয়ে নাও, তোমার সমস্ত শক্তি নম্র করো
সেই মধুর জোয়ালের কাছে যেখানে চিরস্থায়ী স্বাধীনতা বিরাজ করে;
যা মেঘ ভেঙে আলো প্রকাশ করে,
যা আলো দেয় এবং দেখার দৃষ্টি দেয়।
ওহ, দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো; সেই আলো তোমার পথপ্রদর্শক হোক
এই ক্ষুদ্র পথে যা জন্ম মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যায়,
এবং ভাবো কত মন্দ তাকে স্লিপ করা যে স্বর্গ খোঁজে,
এবং স্বর্গীয় শ্বাস থেকে আসে।
তাহলে বিদায়, জগৎ; তোমার চরম আমি দেখি;
চিরন্তন প্রেম, আমার মধ্যে তোমার জীবন বজায় রাখো।
৩. আমার সত্যিকারের প্রেম আমার হৃদয় রেখেছে (My true love hath my heart, and I have his)
আমার সত্যিকারের প্রেম আমার হৃদয় রেখেছে, আর আমি তার,
ন্যায্য বিনিময়ে একের বদলে অন্য দেওয়া হয়েছে।
আমি তার হৃদয় ধরে রেখেছি, আর সে আমার মিস করতে পারে না;
কখনো এত সুন্দর বিনিময় হয়নি।
তার হৃদয় আমার মধ্যে আমাকে ও তাকে এক করে রাখে;
আমার হৃদয় তার মধ্যে তার চিন্তা ও ইন্দ্রিয় চালায়।
সে আমার হৃদয় ভালোবাসে, কারণ একসময় এটি তার নিজের ছিল;
আমি তার হৃদয়কে আদর করি কারণ এটি আমার মধ্যে বাস করে।
তার হৃদয় আমার দৃষ্টি থেকে ক্ষত পেয়েছে;
আমার হৃদয় ক্ষত হয়েছে তার ক্ষত হৃদয় দেখে।
যেমন তার ক্ষত আমার কাছ থেকে তার ওপর পড়েছিল,
তেমনি মনে হতো তার ক্ষত এখনো আমার মধ্যে জ্বলছে।
দুজনের সমান ক্ষত—এই বিনিময়ে আমরা সুখ খুঁজেছি:
আমার সত্যিকারের প্রেম আমার হৃদয় রেখেছে, আর আমি তার।
৪. অ্যাস্ট্রোফিল অ্যান্ড স্টেলা – সনেট ৩১ (With how sad steps, O Moon…)
কত দুঃখের পায়ে হে চাঁদ, তুমি আকাশে উঠছ!
কত নীরবে, কত বিবর্ণ মুখে!
কী, স্বর্গীয় স্থানেও কি সেই ব্যস্ত তীরন্দাজ তার ধারালো তীর ছুঁড়ছে?
নিশ্চয়ই, যদি দীর্ঘকাল প্রেম-পরিচিত চোখ বিচার করতে পারে, তুমিও প্রেমিকের দশা অনুভব করছ।
আমি তোমার চোখে পড়ছি; তোমার ক্লান্ত গ্রেস
আমাকে বলে দেয়—যে তোমার অবস্থা বোঝে।
তাহলে, সঙ্গীত্বের খাতিরে বলো হে চাঁদ,
স্বর্গে কি স্থায়ী প্রেমকে বুদ্ধির অভাব বলে মনে করা হয়?
সেখানকার সৌন্দর্য কি এখানকার মতোই অহংকারী?
তারা কি উপরেও ভালোবাসা পেতে চায়, অথচ যারা ভালোবাসে তাদের অবজ্ঞা করে?
তারা কি সেখানে অকৃতজ্ঞতাকে গুণ বলে?
৫. অ্যাস্ট্রোফিল অ্যান্ড স্টেলা – সনেট ৩৯ (Come, Sleep! O Sleep…)
এসো, ঘুম; হে ঘুম, শান্তির নিশ্চিত গিঁট,
বুদ্ধির বিশ্রামস্থল, দুঃখের মলম,
গরিবের সম্পদ, বন্দির মুক্তি,
উঁচু-নিচুর মধ্যে নিরপেক্ষ বিচারক।
প্রমাণিত ঢাল দিয়ে আমাকে রক্ষা করো সেই প্রচণ্ড তীর থেকে
যা হতাশা আমার দিকে ছুঁড়ে;
আমার মধ্যে সেই গৃহযুদ্ধ থামাও;
যদি তুমি তা করো, আমি উত্তম কর দিতে রাজি।
আমার কাছ থেকে নাও মসৃণ বালিশ, মধুর শয্যা,
আওয়াজ-বধির ও আলো-অন্ধ কক্ষ,
গোলাপের মালা আর ক্লান্ত মাথা;
আর যদি এসব—তোমার ন্যায্য অধিকার বলে—
তোমার ভারী কৃপাকে নাড়া না দেয়, তবে আমার মধ্যে
তুমি স্টেলার প্রতিচ্ছবি দেখবে—অন্য কোথাও থেকে আরও জীবন্ত।
স্যার ফিলিপ সিডনি (Sir Philip Sidney, ৩০ নভেম্বর ১৫৫৪ – ১৭ অক্টোবর ১৫৮৬)
এলিজাবেথীয় যুগের (Elizabethan Age) সবচেয়ে আদর্শ রেনেসাঁস মানুষ (Renaissance Man) হিসেবে পরিচিত স্যার ফিলিপ সিডনি ছিলেন একজন কবি, দরবারী, পণ্ডিত, কূটনীতিক এবং সৈনিক। তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন (মাত্র ৩১ বছর) ছিল ইংরেজি সাহিত্য, রাজনীতি ও প্রোটেস্ট্যান্ট মূল্যবোধের এক অনন্য সমন্বয়। তিনি শুধু লেখকই ছিলেন না, বরং তাঁর জীবনই ছিল একটি জীবন্ত কাব্য—সাহস, শিক্ষা, ভদ্রতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তাঁর বিখ্যাত রচনা Astrophil and Stella, The Countess of Pembroke’s Arcadia এবং The Defence of Poesy ইংরেজি সাহিত্যকে চিরকালের জন্য সমৃদ্ধ করেছে।
পরিবার ও প্রারম্ভিক জীবন
ফিলিপ সিডনি জন্মগ্রহণ করেন ৩০ নভেম্বর ১৫৫৪ সালে ইংল্যান্ডের কেন্টের পেনশার্স্ট প্লেসে (Penshurst Place)। তিনি ছিলেন স্যার হেনরি সিডনি ও লেডি মেরি ডুডলির জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর মা ছিলেন জন ডুডলি, ১ম ডিউক অফ নর্থাম্বারল্যান্ড-এর কন্যা এবং রবার্ট ডুডলি (আর্ল অফ লেস্টার)-এর বোন। লেস্টার ছিলেন রানি এলিজাবেথ প্রথম-এর প্রিয়পাত্র ও শক্তিশালী রাজনীতিবিদ। এই পারিবারিক যোগসূত্র তাঁকে রাজদরবারের খুব কাছাকাছি নিয়ে আসে।
তাঁর গডফাদার ছিলেন স্পেনের রাজা ফিলিপ দ্বিতীয় (Philip II of Spain)। এই নামকরণ পরবর্তীকালে ঐতিহাসিক আয়রনির জন্ম দেয়, কারণ সিডনি পরবর্তী জীবনে স্পেনের বিরুদ্ধে প্রোটেস্ট্যান্ট জোট গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর বোন মেরি সিডনি (পরবর্তীতে কাউন্টেস অফ পেমব্রোক) ছিলেন একজন প্রতিভাবান লেখিকা, অনুবাদক ও সাহিত্যপৃষ্ঠপোষক। ফিলিপ তাঁকে Arcadia উৎসর্গ করেছিলেন। ছোট ভাই রবার্ট সিডনি পরবর্তীকালে আর্ল অফ লেস্টার হয়েছিলেন।
শিক্ষা ও ইউরোপ ভ্রমণ (১৫৬৪–১৫৭৫)
ফিলিপের শিক্ষা শুরু হয় শ্রুজবেরি স্কুলে (Shrewsbury School) ১৫৬৪ সালে, মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে। এখানেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফুলকে গ্রেভিল (Fulke Greville) তাঁর সহপাঠী হন। গ্রেভিল পরবর্তীকালে সিডনির প্রথম জীবনী লেখেন।
১৫৬৮ সালে তিনি অক্সফোর্ডের ক্রাইস্ট চার্চে (Christ Church, Oxford) ভর্তি হন। তবে ডিগ্রি না নিয়েই ১৫৭২ সালে ইউরোপ ভ্রমণে বের হন। এই তিন বছরের গ্র্যান্ড ট্যুর (Grand Tour) তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়া ভ্রমণ করেন। ল্যাটিন, ফরাসি ও ইতালীয় ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রনায়ক ও চিন্তাবিদদের সঙ্গে পরিচিত হন।
১৫৭২ সালের ২৪ আগস্ট প্যারিসে সেন্ট বার্থোলোমিউ’স ডে ম্যাসাকার (St. Bartholomew’s Day Massacre) প্রত্যক্ষ করেন। হাজার হাজার হুগেনো (ফরাসি প্রোটেস্ট্যান্ট) হত্যার এই ভয়াবহ ঘটনা তাঁর মধ্যে গভীর প্রোটেস্ট্যান্ট চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং ক্যাথলিক স্পেনের বিরুদ্ধে তাঁর আজীবন বিরোধিতার ভিত্তি তৈরি করে।
আদালতের জীবন, কূটনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
১৫৭৫ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে এসে তিনি রানি এলিজাবেথের দরবারে যোগ দেন। ১৫৭৭ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁকে জার্মান সম্রাট রুডলফ দ্বিতীয় ও ইলেক্টর প্যালাটাইন লুই ষষ্ঠ-এর কাছে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা নিয়ে গেলেও গোপনে তিনি প্রোটেস্ট্যান্ট জোট গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করেন।
তিনি রানিকে ফ্রান্সের ক্যাথলিক ডিউক অফ অ্যাঞ্জু-এর সঙ্গে বিবাহের বিরোধিতা করেন এবং এর জন্য সাময়িকভাবে দরবার থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। ১৫৮১ ও ১৫৮৪ সালে পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৫৮৩ সালে নাইট উপাধি পান।
তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে সক্রিয় যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন এবং সমুদ্র অভিযানে (Walter Raleigh-এর ভার্জিনিয়া প্রকল্প) আগ্রহী ছিলেন। ১৫৮৫ সালে নেদারল্যান্ডসের ফ্লাশিং (Vlissingen)-এর গভর্নর নিযুক্ত হন এবং আর্ল অফ লেস্টারের অধীনে স্প্যানিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
সাহিত্যকর্ম ও প্রধান রচনাসমূহ
সিডনি নিজেকে প্রধানত লেখক মনে করতেন না। তাঁর রচনাগুলো তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি; পাণ্ডুলিপি আকারে বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে প্রচারিত হতো। মৃত্যুর পর ১৫৯০ সাল থেকে প্রকাশ শুরু হয়।
১. The Countess of Pembroke’s Arcadia
তাঁর সবচেয়ে বড় রচনা। প্যাস্টোরাল রোম্যান্স। বোন মেরির বাড়িতে অবস্থানকালে লেখা। পুরনো সংস্করণ (Old Arcadia) সরল কাহিনি; নতুন সংস্করণ (New Arcadia) জটিল আখ্যান, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ ও প্রেমের মিশ্রণ। শেকসপিয়রের King Lear-এর গ্লস্টার উপকাহিনি এর দ্বারা প্রভাবিত।
২. Astrophil and Stella
১০৮টি সনেট ও ১১টি গানের সংকলন। পেনেলোপি ডেভেরাক্স (পরবর্তীতে লেডি রিচ)-এর প্রতি তাঁর অপ্রাপ্ত প্রেমের কাহিনি। ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম বড় সনেট সিকোয়েন্স। এতে প্রেম, কাব্যতত্ত্ব, আত্মদ্বন্দ্ব ও দার্শনিক চিন্তার অপূর্ব মিশ্রণ রয়েছে। (আগের আলোচনায় আমি এর কয়েকটি সনেটের বাংলা অনুবাদ দিয়েছি।)
৩. The Defence of Poesy (An Apology for Poetry)
কাব্যতত্ত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। স্টিফেন গসনের The School of Abuse-এর বিরুদ্ধে কবিতার পক্ষে যুক্তি। কবিতাকে ইতিহাস ও দর্শনের চেয়ে উন্নত বলে প্রমাণ করেছেন—কারণ কবিতা মানুষকে গুণবান হতে অনুপ্রাণিত করে।
অন্যান্য রচনা: The Lady of May (মাস্ক), সিডনি সামস (বোনের সঙ্গে)।
সামরিক অভিযান ও মৃত্যু
১৫৮৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জুটফেন (Zutphen)-এর যুদ্ধে স্প্যানিশ সরবরাহ বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেন। বাম উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঘোড়া থেকে নেমে সৈন্যদের মতো হেঁটে যান। আরনহেমে (Arnhem) নিয়ে যাওয়া হয়। ১৭ অক্টোবর ১৫৮৬ সালে গ্যাংগ্রিনে মৃত্যুবরণ করেন।
বিখ্যাত উক্তি: একজন আহত সৈনিককে পানি দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “Thy necessity is greater than mine.” (তোমার প্রয়োজন আমার চেয়ে বেশি)। মৃত্যুশয্যায় তিনি পেনেলোপি ডেভেরাক্স সম্পর্কে একটি “vanity” স্বীকার করেন এবং ধর্মীয়ভাবে প্রস্তুত হয়ে মারা যান।
তাঁর মৃত্যু সারা ইউরোপে শোকের সৃষ্টি করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৫৮৭ সালে সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে (Old St Paul’s) জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়—যা সাধারণত মহান অভিজাতদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
ব্যক্তিগত জীবন
১৫৮৩ সালে স্যার ফ্রান্সিস ওয়ালসিংহাম-এর কন্যা ফ্রান্সেস ওয়ালসিংহামকে বিয়ে করেন। তাঁদের এক কন্যা এলিজাবেথ (জন্ম ১৫৮৫)। তিনি গরম মেজাজের ছিলেন, কখনো কখনো অধৈর্য, কিন্তু সবসময় ভদ্র ও উদার।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
সিডনি ছিলেন কাস্তিলিওনের The Courtier-এর আদর্শ বাস্তবায়ন—শিক্ষিত, সাহসী, কবি, সৈনিক ও রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচনাগুলো ইংরেজি সাহিত্যের ভিত্তি হয়ে ওঠে। শেকসপিয়র, মিল্টন, স্যামুয়েল রিচার্ডসন প্রমুখ তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
ফুলকে গ্রেভিল তাঁর জীবনী লেখেন। স্পেনসার Astrophel নামে শোকগাথা রচনা করেন। আজও তিনি “ইংল্যান্ডের নিখুঁত ভদ্রলোক” হিসেবে স্মরণীয়।
স্যার ফিলিপ সিডনির জীবন প্রমাণ করে যে, একজন মানুষ একসঙ্গে চিন্তাবিদ, স্রষ্টা ও কর্মী হতে পারেন। তাঁর সাহিত্য আজও পাঠককে প্রেম, সাহস, নৈতিকতা ও কাব্যের শক্তি সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করে। বাংলায় তাঁর কবিতার অনুবাদ (যেমন Loving in truth সনেট) ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি—যা তাঁর চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতার প্রমাণ।
তাঁর জীবনী পড়লে মনে হয়, রেনেসাঁস শুধু একটি যুগ নয়, বরং একটি আদর্শ—যার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিভূ ছিলেন স্যার ফিলিপ সিডনি।