কবি Robert Herrick ও তাঁর কবিতা (1591–1674)

রবার্ট হ্যারিক (১৫৯১–১৬৭৪) ছিলেন ১৭ শতকের একজন অন্যতম প্রধান ক্যাভালিয়ার কবি। তিনি তাঁর হেসপেরিডেস (১৬৪৮) কাব্যগ্রন্থের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যাতে ১,২০০-এরও বেশি ছোট গীতিকবিতা, এপিগ্রাম (কৌতুকপূর্ণ সংক্ষিপ্ত কবিতা) এবং গান রয়েছে। তাঁর কবিতা মূলত ‘কার্পে ডিয়েম’ (সময় থাকতে জীবনকে উপভোগ করো), ইন্দ্রিয়সুখ, ক্ষণস্থায়ী যৌবন, প্রকৃতি এবং ধ্রুপদী প্রভাবকে (বিশেষ করে হোরাস এবং ক্যাটুল্লাস) উদযাপন করে। হালকা, সুরেলা, রসাত্মক এবং প্রায়শই কামোদ্দীপক বা ভক্তিমূলক হ্যারিকের এই ছন্দশৈলী তাঁর সমসাময়িক জন ডানের গম্ভীর মেটাফিজিক্যাল ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

এখানে তাঁর রচনা থেকে ১০টি প্রতিনিধি স্থানীয় কবিতা দেওয়া হলো।

১. To the Virgins, to Make Much of Time

তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ‘কার্পে ডিয়েম’ (সময়কে কাজে লাগানোর) কবিতা।

যতদিন পারো গোলাপের কুঁড়িগুলো সংগ্রহ করে নাও,

পুরানো সময় কিন্তু এখনো দ্রুত উড়ে চলেছে;

আর যে ফুলটি আজ মৃদু হাসছে,

আগামীকালই হয়তো তা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।

স্বর্গের মহিমান্বিত প্রদীপ, সেই সূর্য,

সে যতই ওপরের দিকে উঠছে,

ততই দ্রুত ফুরিয়ে আসছে তার দৌড়,

আর সে এগিয়ে যাচ্ছে অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি।

জীবনের সেই বয়সটাই সেরা যা প্রথমে আসে,

যখন যৌবন এবং রক্ত থাকে অনেক বেশি উষ্ণ;

কিন্তু তা হারিয়ে গেলে, কেবলই খারাপ আর খারাপ সময়

পূর্বের সেই সোনালী দিনগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়।

তাই লজ্জায় গুটিয়ে থেকো না, বরং নিজের সময়কে কাজে লাগাও,

আর সুযোগ থাকতে থাকতেই বিয়ে করে নাও:

কারণ একবার যদি তোমার জীবনের এই শ্রেষ্ঠ সময়টি হারিয়ে যায়,

তবে তোমাকে হয়তো চিরকালের জন্য অপেক্ষা করে পড়ে থাকতে হবে।

২. Delight in Disorder

পোশাক এবং সৌন্দর্যের মাঝে এক স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় অপূর্ণতাকে উদযাপন করে।

পোশাকের মাঝের এক মিষ্টি বিশৃঙ্খলা

বস্ত্রের মাঝে এক চঞ্চলতা বা লাবণ্য জাগিয়ে তোলে;

কাঁধের ওপর আলগাভাবে ছুঁড়ে দেওয়া এক টুকরো পাতলা কাপড়

যা এক চমৎকার বিভ্রান্তি তৈরি করে;

একটি ভুল পথে যাওয়া লেস বা ফিতে, যা এখানে-সেখানে

লালচে রঙের বক্ষবন্ধনীকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আটকে রাখে;

উদাসীনভাবে ভাঁজ করা একটি কাফ, যার কারণে

রিবন বা ফিতেগুলো অবিন্যস্তভাবে বয়ে চলে;

এক বিজয়ী ঢেউ, যা সত্যিই লক্ষ্য করার মতো,

উত্তাল পেটিকোটের ঘেরের মাঝে;

এক অসাবধান জুতো-বাঁধার ফিতে, যার বন্ধনের মাঝে

আমি এক বন্য ভদ্রতা বা নান্দনিকতা দেখতে পাই;

এগুলো আমাকে অনেক বেশি মোহিত করে, সেই শিল্পের চেয়ে

যা প্রতিটি অংশে বড্ড বেশি নিখুঁত ও কৃত্রিম।

৩. Upon Julia’s Clothes

কামুক এবং জুলিয়ার রেশমি পোশাকের তরল গতির চিত্রকল্পের জন্য বিখ্যাত।

যখন আমার জুলিয়া রেশমি পোশাকে হেঁটে যায়,

তখন, ঠিক তখনই, আমার মনে হয় কত মধুরভাবে প্রবাহিত হয়

তার পোশাকের সেই তরল অবয়ব!

তারপর, যখন আমি চোখ ফিরিয়ে তাকাই এবং দেখি

প্রতিটি দিকে তার সেই চমৎকার কম্পন কতখানি মুক্ত,

ওহ, সেই উজ্জ্বলতা আমাকে কতখানি মুগ্ধ করে!

৪. To Daffodils

ফুলের রূপক ব্যবহার করে জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্বের ওপর এক গভীর ধ্যান।

হে সুন্দর ড্যাফোডিল, আমরা কেঁদে উঠি দেখতে যে

তুমি এত তাড়াতাড়ি বিদায় নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছ;

এখনো তো ভোরে জেগে ওঠা সূর্য

তার মধ্যগগনে পৌঁছাতে পারেনি।

থামো, একটু থামো,

যতক্ষণ না এই চঞ্চল দিনটি

ছুটে চলে যায়

কেবল সন্ধ্যার প্রার্থনা পর্যন্ত;

এবং একসাথে প্রার্থনা শেষ করে, আমরাও

তোমার সাথেই এক পথে এগিয়ে যাব।

আমাদেরও থাকার জন্য খুব অল্প সময় আছে, ঠিক তোমার মতোই,

আমাদেরও বসন্তকাল ঠিক ততটাই সংক্ষিপ্ত;

ক্ষয়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ঠিক ততটাই দ্রুত বৃদ্ধি,

যেমনটা তোমার, কিংবা অন্য যেকোনো কিছুর হয়।

আমরা মরে যাই

ঠিক যেভাবে তোমার ঘণ্টাগুলো ফুরিয়ে যায়, এবং শুকিয়ে

ঝরে যাই,

গ্রীষ্মের বৃষ্টির মতো;

কিংবা সকালের শিশিরের মুক্তোদানাগুলোর মতো,

যাদের আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায় না।

৫. Cherry-Ripe

রসিক ও কামুক এক কবিতা, যেখানে অধরকে পাকা চেরির সাথে তুলনা করা হয়েছে।

পাকা চেরি, পাকা, একদম পাকা! আমি চিৎকার করে ডাকছি,

রসালো এবং সুন্দর চেরি; এসো এবং কিনে নাও:

যদি এমনটা হয়, তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করো কোথায়

এগুলো জন্মায়? আমি উত্তর দেব, ঠিক ওখানে,

যেখানে আমার জুলিয়ার ঠোঁট দুটি মৃদু হাসে;

ওখানেই সেই দেশ, বা চেরি-দ্বীপ,

যার বাগানগুলো পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলে

সারাটা বছর ধরে ঠিক কোথায় চেরি জন্মায়।

৬. To Anthea, Who May Command Him Anything

উৎসর্গীকৃত প্রেমের এক অটল অঙ্গীকার।

আমাকে বাঁচতে বলো, আর আমি বেঁচে থাকব

তোমার একনিষ্ঠ উপাসক হয়ে থাকার জন্য;

কিংবা আমাকে ভালোবাসতে বলো, আর আমি উজাড় করে দেব

একটি ভালোবাসাময় হৃদয় তোমার চরণে।

এমন এক নরম হৃদয়, এমন এক দয়ালু হৃদয়,

এমন এক সুস্থ ও মুক্ত হৃদয়

যা এই সমগ্র পৃথিবীর কোথাও তুমি খুঁজে পাবে না,

সেই হৃদয়টি আমি তোমাকে দিয়ে দেব।

সেই হৃদয়কে স্থির থাকতে বলো, আর এটি স্থির থাকবে,

তোমার আদেশকে সম্মান জানাতে;

কিংবা এটিকে পুরোপুরি ক্ষয়ে যেতে বলো,

আর এটি তোমার জন্য ঠিক তাই করবে।

আমাকে কাঁদতে বলো, আর আমি কেঁদে যাব,

যতক্ষণ না আমার দেখার মতো চোখ থাকবে;

আর যখন চোখ থাকবে না, তখনও আমি ধরে রাখব

একটি হৃদয় কেবল তোমার জন্য কাঁদার জন্য।

আমাকে হতাশ হতে বলো, আর আমি হতাশায় ডুবে যাব,

সেই সাইপ্রেস গাছের নিচে;

কিংবা আমাকে মরতে বলো, আর আমি সাহস দেখাব

এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হতেও, কেবল তোমার জন্য মরার উদ্দেশ্যে।

তুমিই আমার জীবন, আমার ভালোবাসা, আমার হৃদয়,

আমার চোখের পরম আলো:

এবং আমার প্রতিটি অংশের ওপর তোমার অধিকার রয়েছে,

তোমার জন্য বেঁচে থাকার এবং তোমার জন্য মরার।

৭. The Night-Piece, to Julia

রূপকথার চিত্রকল্পসহ এক কোমল, নৈশকালীন প্রেমের কবিতা।

জোনাকিরা তাদের চোখ দিয়ে তোমাকে আলো ধার দিক,

ছুটে যাওয়া নক্ষত্ররা তোমার সঙ্গী হোক;

এবং এলফ বা পরীরাও,

যাদের ছোট ছোট চোখগুলো জ্বলছে

আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো, তারা তোমার বন্ধু হোক।

কোনো মায়াবী আলো (উইলো-দ্য-উইস্প) যেন তোমাকে ভুল পথে না নেয়,

কোনো সাপ বা ধীরগতির কীট যেন তোমাকে দংশন না করে;

বরং এগিয়ে যাও, তোমার নিজের পথে এগিয়ে যাও

কোথাও থমকে না দাঁড়িয়ে,

যেহেতু তোমাকে ভয় দেখানোর মতো কোনো ভূত সেখানে নেই।

অন্ধকার যেন তোমাকে ক্লান্ত না করে;

তাতে কী বা আসে যায় যদি চাঁদ ঘুমিয়েও পড়ে?

রাতের তারকারা

তোমাকে তাদের আলো ধার দেবে,

অসংখ্য উজ্জ্বল মোমবাতির মতো।

তাহলে, জুলিয়া, আমাকে তোমার মন জয় করতে দাও,

এভাবে, ঠিক এভাবেই আমার কাছে চলে এসো;

আর আমি যখন দেখা পাব

তোমার রূপালী পা দুটির,

আমার সমস্ত আত্মা আমি তোমার মাঝে উজাড় করে দেব।

৮. Corinna’s Going A-Maying (উদ্বোধনী অংশ)

মে দিবস এবং যৌবন উদযাপনের এক আনন্দময় আমন্ত্রণ।

জেগে ওঠো, জেগে ওঠো, লজ্জার মাথা খেয়ে জেগে ওঠো, এই প্রস্ফুটিত সকাল

তার ডানার ওপর নিয়ে এসেছে এক অপরূপ দেবতাকে।

দেখো কীভাবে ঊষা (অরোরা) তার সুন্দর

তাজা রঙের চাদর বাতাসের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে:

জেগে ওঠো, বিছানায় পড়ে থাকা মিষ্টি অলস মেয়ে, আর দেখো

শিশির কীভাবে তাকে এবং তোমাকে মুক্তোদানায় সাজিয়ে দিচ্ছে।

পাখিরা প্রতিটি ঝোপে মধুর সুর গাইছে,

আর এই সঙ্গীতের শব্দ অনেক বেশি আনন্দদায়ক

নিচের বা উপরের অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে,

যখন সঙ্গীতের দেবতা তাঁর বীণায় সুর তোলেন।

জেগে ওঠো, এবং তোমার সবুজ পোশাক পরে নাও, আর সবাইকে দেখতে দাও

তুমি বসন্তকালের মতো এগিয়ে আসছ, সতেজ এবং সবুজ হয়ে।

৯. To Blossoms

ক্ষণস্থায়ীত্বের ওপর আরেকটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও চমৎকার প্রতিফলন।

একটি ফলবান বৃক্ষের সুন্দর প্রতিশ্রুতিরা,

তোমরা কেন এত দ্রুত ঝরে পড়ছ?

তোমাদের সময় তো এখনো পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি,

তবুও তোমরা এখানে আরও কিছুকাল থেকে যেতে পারতে

একটু লজ্জায় রাঙা হতে এবং মৃদু হাসতে,

এবং অবশেষে বিদায় নিতে।

কী অদ্ভুত, তোমরা কি কেবল জন্মেছিলে

একটি ঘণ্টা বা আধ ঘণ্টার আনন্দ হয়ে থাকার জন্য,

এবং এভাবেই শুভরাত্রি বলে বিদায় নেওয়ার জন্য?

প্রকৃতির জন্য এটি বড়ই পরিতাপের বিষয় যে সে তোমাদের সৃষ্টি করেছিল

কেবলমাত্র তোমাদের মূল্যটুকু দেখানোর জন্য,

এবং তোমাদের পুরোপুরি হারিয়ে ফেলার জন্য।

কিন্তু তোমরা তো অত্যন্ত প্রিয় পাতা বা পাপড়ি, যেখানে আমরা

পাঠ করতে পারি কত দ্রুত সবকিছুর

অবসান ঘটে, তা যতই চমৎকার বা বীরত্বপূর্ণ হোক না কেন:

এবং তারা তাদের অহংকার বা মহিমা প্রদর্শনের পর

ঠিক তোমাদের মতোই, কিছুকালের জন্য, আলতো করে ভেসে চলে যায়

কবরের গহীনে।

১০. A Thanksgiving to God, for his House

একটি সহজ, সরল ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ ভক্তিমূলক কবিতা।

প্রভু, তুমি আমাকে একটি কুটির দিয়েছ

বসবাস করার জন্য,

একটি ছোট্ট ঘর, যার নম্র ছাদটি

ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে নিরাপদ:

যার কাঠের কাঠামোর নিচে আমি শুয়ে থাকি

কোমল এবং শুকনো অবস্থায়;

যেখানে তুমি আমার শয়নকক্ষ পাহারা দেওয়ার জন্য

একটি প্রহরী দল নিযুক্ত করেছ

নিষ্পাপ চিন্তাভাবনার, আমাকে পাহারা দিতে এবং ধরে রাখতে

যখন আমি ঘুমিয়ে থাকি।

আমার বারান্দাটি বেশ নিচু, ঠিক যেমনটি আমার ভাগ্য,

উভয়ই কোনো জাঁকজমকহীন;

তবুও আমার দরজার চৌকাঠটি

দরিদ্রদের আগমনে ক্ষয়ে গেছে,

যারা সেখানে আসে এবং অনায়াসেই পেয়ে যায়

সুন্দর বাণী, কিংবা খাবার:

আমার বসার ঘরের মতোই, আমার হলঘর

এবং রান্নাঘরটিও বেশ ছোট;

একটি ছোট্ট ভাণ্ডার, আর তার ভেতরে

একটি ছোট্ট পাত্র,

যা আমার ছোট্ট রুটিটিকে অক্ষত ও নিরাপদ রাখে:

কাঁটাঝোপের কিছু ভঙ্গুর ডালপালা

আমার আগুন জ্বালিয়ে রাখে,

যার জ্বলন্ত কয়লার ঠিক পাশে আমি বসি,

আর তারই মতো দীপ্তিময় হয়ে উঠি।

প্রভু, আমি ইহাও স্বীকার করি, আমি যখন আহার করি,

সেই শস্যদানা তোমারই দেওয়া,

এবং অন্য সমস্ত ছোট ছোট অংশ, যা কিছু

ওখানে তোমার দ্বারা রাখা হয়েছে;

সেইসব শাকসবজি, পার্সলেন এবং জলস্রোতের সেই

জলকুম্ভী (ওয়াটার-ক্রেস),

যা তোমার দয়ায় তুমি পাঠিয়েছে;

এবং আমার ভেতরের সন্তুষ্টি

সেগুলোকে এবং আমার প্রিয় বীট রুটকে

আরও অনেক বেশি মধুর করে তোলে।

তুমিই সেইজন যে আমার জ্বলন্ত উনুনকে মুকুট পরিয়ে দাও

নিষ্পাপ আনন্দের দ্বারা;

এবং আমাকে পান করার জন্য দাও উৎসবের পাত্র,

যা কানায় কানায় মশলায় সুবাসিত।

প্রভু, এটি তোমারই প্রাচুর্যে ভরা হাত

যা আমার জমিকে উর্বর করে তোলে;

এবং আমাকে দেয়, আমার বোনা এক বুশেল শস্যের বদলে,

একটির বদলে বিশ গুণ ফসল;

তুমি আমার ডিম পাড়া মুরগিটিকে তৈরি করো

প্রতিদিন ডিম দেওয়ার জন্য;

পাশাপাশি আমার স্বাস্থ্যবান ভেড়াগুলো জন্ম দেয়

প্রতি বছর যমজ সন্তান;

যখন আমার গাভীগুলোর ওলান থেকে

মদের বদলে ঘন ক্ষীর প্রবাহিত হয়।

এইসব এবং এর চেয়েও উত্তম যা কিছু তুমি পাঠাও

আমার কাছে, তা কেবল এই উদ্দেশ্যে,

যেন আমি উৎসর্গ করতে পারি, আমার পক্ষ থেকে,

একটি কৃতজ্ঞ হৃদয়;

যা ধূপের আগুনে প্রজ্বলিত করে আমি সমর্পণ করি,

সম্পূর্ণরূপে তোমারই চরণে;

কিন্তু সেই গ্রহণযোগ্যতা, তা অবশ্যই আসতে হবে,

আমার খ্রীষ্ট, তোমারই মাধ্যমে।

রবার্ট হ্যারিকের এই কবিতাগুলো তাঁর নিজস্ব শৈলী—চঞ্চল ইন্দ্রিয়সুখ, সময়কে উপভোগ করার তাগিদ, প্রাণবন্ত চিত্রকল্প এবং এক নম্র আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব নিদর্শন। তাঁর এই সহজ অথচ সুরময় প্রকাশ আজও বিশ্ব সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।

রবার্ট হেরিক (১৫৯১–১৬৭৪): ক্যাভালিয়ার গীতিকবি ও “গ্যাদার ইয়ে রোজবাডস হোয়াইল ইয়ে মে”-এর রচয়িতা – একটি বিস্তারিত জীবনী

রবার্ট হেরিক সপ্তদশ শতকের ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ক্যাভালিয়ার কবি (Cavalier poet)। তিনি রাজতন্ত্রপন্থী (Royalist) কবিদের দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং তাঁর কবিতায় জীবনের ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য, যৌবন, প্রেম ও আনন্দের উদযাপন ফুটে উঠেছে। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “To the Virgins, to Make Much of Time” (কুমারীদের প্রতি, সময়ের সদ্ব্যবহার করতে) — যার প্রথম চরণ “Gather ye rosebuds while ye may” (গোলাপের কুঁড়ি সংগ্রহ করো যতদিন পাও) — কার্পে ডিয়েম (carpe diem) ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে আছে।

হেরিকের কবিতা হালকা, সংগীতময়, ইন্দ্রিয়পরায়ণ এবং শাস্ত্রীয় (Horace, Catullus, Ovid) প্রভাবে সমৃদ্ধ। তিনি প্রেম, প্রকৃতি, মদ্যপান, গ্রামীণ জীবন ও মানবজীবনের ক্ষণস্থায়ীত্ব নিয়ে লিখেছেন। ১৬৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সংকলন হেস্পেরিডেস (Hesperides) ইংরেজি গীতিকবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ। তিনি ছিলেন একজন অ্যাংলিকান যাজক, কিন্তু তাঁর কবিতায় পৌত্তলিক সংবেদনশীলতা ও খ্রিস্টীয় ভক্তির সুন্দর মিশ্রণ ঘটেছে।

জন্ম, পরিবার ও প্রাথমিক জীবন

রবার্ট হেরিক ১৫৯১ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন (ব্যাপটিজম ২৪ আগস্ট ১৫৯১)। তাঁর পিতা নিকোলাস হেরিক ছিলেন একজন সম্পন্ন স্বর্ণকার (goldsmith)। মাতার নাম জুলিয়া স্টোন। শৈশবে পিতার মৃত্যুর পর তিনি চাচা স্যার উইলিয়াম হেরিকের তত্ত্বাবধানে বড় হন। চাচা ছিলেন রাজদরবারের সঙ্গে যুক্ত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

হেরিকের শৈশব লন্ডনের মধ্যবিত্ত পরিবেশে কেটেছে। তিনি ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি শাস্ত্রীয় সাহিত্য ও লাতিন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।

কেমব্রিজ শিক্ষা ও বেন জনসনের প্রভাব

১৬০৭ সালে হেরিক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জনস কলেজে ভর্তি হন। ১৬১৩ সালে তিনি ব্যাচেলর অব আর্টস (BA) এবং ১৬১৭ সালে মাস্টার অব আর্টস (MA) ডিগ্রি লাভ করেন। কেমব্রিজে তিনি বিখ্যাত নাট্যকার ও কবি বেন জনসন (Ben Jonson)-এর “ট্রাইব অব বেন” (Tribe of Ben) নামক সাহিত্যিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন। জনসনের প্রভাবে হেরিকের কবিতায় শাস্ত্রীয় সংযম, হালকা বুদ্ধি ও গীতিকবিতার সুর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই সময় তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। তবে প্রথম জীবনে তিনি আইন বা রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেননি; বরং সাহিত্য ও যাজকত্বের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

যাজকত্ব ও ডেভনের গ্রামীণ জীবন

১৬২৩ সালে হেরিক অ্যাংলিকান চার্চের যাজক (priest) হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৬২৯ সালে রাজা প্রথম চার্লসের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ডেভনশায়ারের ডিন প্রায়র (Dean Prior) গ্রামের ভিকার নিযুক্ত হন। এই ছোট্ট গ্রামীণ প্যারিশে তিনি প্রায় চল্লিশ বছর (১৬২৯–১৬৪৭ এবং ১৬৬০–১৬৭৪) কাটান।

ডেভনের নির্জন, প্রাকৃতিক পরিবেশ হেরিকের কবিতায় গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি গ্রামীণ জীবন, ঋতুচক্র, ফুল, ফল ও সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় “Julia”, “Anthea”, “Corinna” প্রভৃতি নারী চরিত্র দেখা যায় — যারা সম্ভবত কাল্পনিক বা সম্মিলিত মূর্তি। তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং জীবন কাটিয়েছেন একাকী যাজক হিসেবে।

সাহিত্যকর্ম: হেস্পেরিডেস ও নোবল নাম্বার্স

হেরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনা হেস্পেরিডেস (Hesperides, ১৬৪৮)। এতে ১,৪০০-এর বেশি ছোট ছোট কবিতা আছে — গীতিকবিতা, এপিগ্রাম, গান ও সংক্ষিপ্ত কবিতা। বইটির নাম গ্রিক পুরাণের হেস্পেরিডেস (সোনার আপেলের বাগান) থেকে নেওয়া।

প্রধান থিম:

  • কার্পে ডিয়েম: যৌবন ও সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী, তাই আনন্দ উপভোগ করো (“Gather ye rosebuds while ye may”)।
  • ইন্দ্রিয়পরায়ণতা: প্রেম, শরীর, পোশাক ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের উদযাপন।
  • শাস্ত্রীয় প্রভাব: হোরেসের মতো হালকা, মার্জিত ও দার্শনিক সুর।
  • গ্রামীণ জীবন: ডেভনের প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবন।

বিখ্যাত কবিতা:

  • “To the Virgins, to Make Much of Time”
  • “Delight in Disorder”
  • “Upon Julia’s Clothes”
  • “To Daffodils”
  • “Cherry-Ripe”
  • “Corinna’s Going A-Maying”
  • “The Night-Piece, to Julia”

তিনি ধর্মীয় কবিতাও লিখেছেন — নোবল নাম্বার্স (Noble Numbers, ১৬৪৮)। এতে খ্রিস্টীয় ভক্তি ও নৈতিকতার প্রকাশ আছে, যদিও হেস্পেরিডেস-এর তুলনায় কম জনপ্রিয়।

ইংরেজ গৃহযুদ্ধ ও নির্বাসন

১৬৪২–১৬৫১ সালের ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সময় হেরিক রাজতন্ত্রপন্থী (Cavalier) ছিলেন। ১৬৪৭ সালে পার্লামেন্টারিয়ান (Parliamentarian) বাহিনী তাঁকে ডিন প্রায়র থেকে বহিষ্কার করে। তিনি লন্ডনে ফিরে যান এবং সম্ভবত দারিদ্র্যে দিন কাটান। এই সময় তিনি হেস্পেরিডেস প্রকাশ করেন।

১৬৬০ সালে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে (Restoration) তিনি আবার ডিন প্রায়রে ফিরে আসেন এবং শেষ জীবন সেখানেই কাটান।

শেষ জীবন ও মৃত্যু

হেরিক ১৬৭৪ সালের ১৫ অক্টোবর ডিন প্রায়রে মারা যান। তাঁকে স্থানীয় গির্জার উঠানে সমাহিত করা হয়। তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং সন্তানও ছিল না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কবিতা লিখেছেন।

উত্তরাধিকার ও প্রভাব

রবার্ট হেরিক ইংরেজি গীতিকবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি। তাঁর কবিতা অষ্টাদশ শতকে জনপ্রিয় ছিল, পরে কিছুটা ভুলে যাওয়া হয়, কিন্তু উনবিংশ ও বিংশ শতকে আবার আবিষ্কৃত হয়। তাঁর কার্পে ডিয়েম থিম আজও সাহিত্য, সংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে জীবন্ত।

হেরিকের কবিতা হালকা মনে হলেও গভীর দার্শনিকতা আছে — জীবনের সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী, তাই প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে হবে। তিনি ক্যাভালিয়ার কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঠকপ্রিয় এবং আধুনিক যুগেও তাঁর কবিতা পাঠককে মুগ্ধ করে।

Leave a Comment