আনা আখমাতোভা (Anna Akhmatova, ১৮৮৯–১৯৬৬): অ্যাকমিস্ট আন্দোলনের কবি যিনি ১৯১২ সালে crisp, realistic psychological lyrics দিয়ে সাহিত্যজগতকে আলোড়িত করেছিলেন
আনা আন্দ্রেয়েভনা আখমাতোভা (প্রকৃত নাম আনা গোরেঙ্কো) ছিলেন রাশিয়ান সিলভার এজ-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং অ্যাকমিস্ট আন্দোলনের প্রধান প্রতিনিধি। ১৯১২ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ Evening (Вечер) প্রকাশিত হয়, যা সংক্ষিপ্ত, বাস্তবসম্মত ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতার জন্য সাহিত্যজগতকে চমকে দেয়। তিনি প্রেম, ক্ষতি, একাকীত্ব, মাতৃত্ব এবং পরবর্তীকালে স্তালিনের দমন-পীড়নের যন্ত্রণাকে অসাধারণ সংক্ষিপ্ততায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ Requiem (১৯৩৫–১৯৪০) স্তালিনের গুলাগ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ।
1. আমি শিখেছি সহজ ও জ্ঞানী হয়ে বাঁচতে (I have learned to live simply and wisely…)
আমি শিখেছি সহজ ও জ্ঞানী হয়ে বাঁচতে,
আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে,
আর সন্ধ্যার আগে দীর্ঘক্ষণ ঘুরে বেড়াতে
যাতে অপ্রয়োজনীয় দুঃখ ক্লান্ত হয়ে যায়।
যখন খাদে বারডক গাছ মর্মর করে,
আর হলুদ-লাল রোয়ান বেরির গুচ্ছ ঝুলে পড়ে,
আমি আনন্দের কবিতা লিখি
জীবনের ক্ষয়, ক্ষয় ও সৌন্দর্য নিয়ে।
আমি ফিরে আসি। তুলতুলে বিড়ালটি
আমার হাত চাটে, মিষ্টি করে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে।
আর করাতকলের টাওয়ারে উজ্জ্বল আগুন
কাঠের গুঁড়ির গোলাপি আভা জ্বালায়।
শুধু ছাদে নামা সারসের ডাক
মাঝে মাঝে নীরবতা ভাঙে।
আর যদি তুমি আমার দরজায় ধাক্কা দাও,
মনে হয় আমি শুনতেও পাব না।
2. হাত অন্ধকার ওড়নার নিচে জড়ো করা (Hands clasped under the dark veil…)
হাত অন্ধকার ওড়নার নিচে জড়ো করা —
“আজ কেন ফ্যাকাশে?”
— কারণ আমি তাকে মাতাল করে দিয়েছি
দুঃখের তীব্র মদ দিয়ে।
কীভাবে ভুলব তার চোখের দৃষ্টি?
কীভাবে ভুলব শক্ত, শুষ্ক ঠোঁট?
আমি চাই যে সে কষ্ট পাক —
আর আমি চাই সে ভালোবাসুক।
3. অতিথি (The Guest)
সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো।
যখন সে এসেছিল, সে ছিল অপরিচিত।
সে বসেছিল আমার বিছানার পাশে,
আর আমি তার হাত ধরেছিলাম।
সে বলেছিল, “তুমি কাঁদছ?”
আমি বলেছিলাম, “না।”
কিন্তু চোখে জল ছিল।
সে চলে গেল, আর আমি রইলাম একা।
4. লোটের স্ত্রী (Lot’s Wife)
এবং ধার্মিক মানুষ তার স্ত্রীর পিছু পিছু হাঁটছিল,
কিন্তু সে পিছনে তাকাল।
আর তৎক্ষণাৎ সে লবণের স্তম্ভ হয়ে গেল
এবং তার পা মাটির সঙ্গে মিশে গেল।
কে জানে কোন দুঃখ তাকে পিছনে টেনেছিল,
কোন প্রেম, কোন ভয়, কোন আকাঙ্ক্ষা?
কিন্তু তার চোখ চিরকালের জন্য
সেই জ্বলন্ত শহরের দিকে তাকিয়ে রইল।
5. সাহস (Courage)
আমরা জানি আজ কী ঘটবে —
মৃত্যু সাদা কাগজে দরজায় ক্রস আঁকছে,
আর কাক ডেকে ডেকে ডাকছে, আর কাক উড়ে আসছে।
আর আমরা জানি যে সাহস মানে
শুধু বেঁচে থাকা নয় —
বরং সেই মুহূর্তে হাসতে পারা
যখন সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
6. দণ্ডাদেশ (The Sentence) — Requiem থেকে
আর পাথরের শব্দ শোনা গেল,
যেন হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে যাচ্ছে।
আর আমি বুঝতে পারলাম —
আমি এখন একা।
আর আমি শিখলাম কীভাবে বাঁচতে হয়
যখন কেউ নেই,
যখন শুধু দেয়াল আর ছায়া আছে,
আর দূরে কারও পায়ের শব্দ।
7. ক্রুশবিদ্ধকরণ (Crucifixion) — Requiem থেকে
“মা, কাঁদো না আমার জন্য…”
সে বলেছিল ক্রুশ থেকে।
কিন্তু মা দাঁড়িয়ে ছিলেন,
আর তার হৃদয় পাথর হয়ে গিয়েছিল।
আর স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিল একটি তারা,
আর পৃথিবী কাঁপছিল।
আর যারা দাঁড়িয়ে ছিল, তারা জানত —
এটাই শেষ।
8. মিউজ (The Muse)
যখন রাতে আমি ঘুমাতে পারি না,
আর আমার হৃদয় ভারী হয়ে যায়,
তখন সে আসে — আমার মিউজ —
আর হাত ধরে আমাকে নিয়ে যায়।
সে বলে, “লেখো।”
আর আমি লিখি।
যদিও কথাগুলো ছুরির মতো কাটে,
আর রক্ত ঝরে।
9. সবকিছু লুটপাট, বিশ্বাসঘাতকতা ও বিক্রি হয়ে গেছে (Everything is plundered, betrayed and traded…)
সবকিছু লুটপাট, বিশ্বাসঘাতকতা ও বিক্রি হয়ে গেছে,
কালো মৃত্যুর ডানা মাথার উপরে।
সবকিছু ক্ষুধায় গ্রাস করেছে, অতৃপ্ত,
তাহলে কেন সামনে আলো জ্বলছে?
আর আমরা জানি — এই আলো
আমাদের জন্য নয়।
এটা অন্য কারও জন্য।
আর আমরা চলতে থাকি, অন্ধকারের মধ্য দিয়ে।
10. তুমি আর আমার সঙ্গে নেই (You are no longer with me…)
তুমি আর আমার সঙ্গে নেই।
কিন্তু তোমার ছায়া এখনো ঘরে ঘুরে বেড়ায়।
আর আমি জানালা দিয়ে তাকাই,
আর মনে হয় — তুমি ফিরে আসবে।
কিন্তু দরজা খোলে না।
আর রাত গভীর হয়।
আর আমি শিখি কীভাবে একা থাকতে হয় —
যেমন তুমি চেয়েছিলে।
আনা আখমাতোভা (১৮৮৯–১৯৬৬): ১৯১২ সালে crisp, realistic psychological lyrics দিয়ে সাহিত্যজগতকে আলোড়িত করা কবি
আনা আন্দ্রেয়েভনা আখমাতোভা (প্রকৃত নাম আনা আন্দ্রেয়েভনা গোরেঙ্কো) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর রাশিয়ান সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং অ্যাকমিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। ১৯১২ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ Evening (Вечер) প্রকাশিত হয়। এই সংকলন সংক্ষিপ্ত, বাস্তবসম্মত, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতায় ভরা গীতিকবিতা দিয়ে রাশিয়ান সাহিত্যজগতকে চমকে দেয়। তিনি প্রেম, বিচ্ছেদ, নারীর অন্তর্জগত, ক্ষতি ও পরবর্তীকালে স্তালিনের সন্ত্রাসের যন্ত্রণাকে অসাধারণ সংক্ষিপ্ততা ও স্পষ্টতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ Requiem স্তালিন যুগের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী সাক্ষ্য।
আখমাতোভা শুধু কবি ছিলেন না — তিনি ছিলেন একটি যুগের সাক্ষী, নারীর আত্মার রক্ষক এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর জীবন ছিল প্রেম, ক্ষতি, দারিদ্র্য, নজরদারি ও অবিশ্বাস্য সহনশীলতার মিশ্রণ।
জন্ম, পারিবারিক পটভূমি ও শৈশব
২৩ জুন ১৮৮৯ সালে (পুরনো রীতি অনুসারে ১১ জুন) ইউক্রেনের ওদেসার কাছে বোলশয় ফন্তানে আনা গোরেঙ্কো জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আন্দ্রেই আন্তোনোভিচ গোরেঙ্কো ছিলেন একজন নৌ-প্রকৌশলী, আর মা ইনা এরাজমোভনা ছিলেন একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। পরিবারে ছিল ছয় সন্তান; আনা ছিলেন তৃতীয়। শৈশবে পিতা-মাতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তারা আলাদা হয়ে যান।
১৮৯০ সালে পরিবার সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে সারস্কোয়ে সেলোতে চলে আসে — যেখানে আনা তার শৈশব ও কৈশোর কাটান। এই রাজকীয় শহরের সুন্দর্য, প্রাসাদ ও পার্ক তাঁর কবিতায় গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯০৫ সালে তিনি কিয়েভে চলে যান এবং সেখানে মেয়েদের জিমনেসিয়ামে পড়াশোনা করেন। পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আইন বিভাগে ভর্তি হন, কিন্তু শীঘ্রই সাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
ছদ্মনাম গ্রহণ ও প্রথম প্রকাশনা
১৯০৭ সালে তিনি প্রথমবারের মতো “আনা আখমাতোভা” ছদ্মনামে কবিতা প্রকাশ করেন। এই নাম তিনি তাঁর তাতার বংশোদ্ভূত প্রপিতামহীর কাছ থেকে নিয়েছিলেন। ১৯১০ সালে তিনি কবি নিকোলাই গুমিলিওভকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে তাঁর সাহিত্যজীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
১৯১২: সাহিত্যজগতে আলোড়ন ও অ্যাকমিজম
১৯১২ সালে আখমাতোভার প্রথম কাব্যগ্রন্থ Evening (Вечер) প্রকাশিত হয়। এই পাতলা বইটি রাশিয়ান সাহিত্যে বিপ্লব ঘটায়। তাঁর কবিতা ছিল সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে তীক্ষ্ণ। প্রেম, বিচ্ছেদ, নারীর অন্তর্দ্বন্দ্ব, ছোট ছোট অঙ্গভঙ্গি ও বস্তুর মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ — এই শৈলী পাঠকদের মুগ্ধ করে।
একটি বিখ্যাত উদাহরণ:
“হাত অন্ধকার ওড়নার নিচে জড়ো করা —
‘আজ কেন ফ্যাকাশে?’
— কারণ আমি তাকে মাতাল করে দিয়েছি
দুঃখের তীব্র মদ দিয়ে।”
এই সময় তিনি স্বামী নিকোলাই গুমিলিওভ ও ওসিপ মান্দেলস্তামের সঙ্গে অ্যাকমিজম (Acmeism) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যাকমিস্টরা সিম্বলিজমের অস্পষ্টতা ও রহস্যবাদের বিরোধিতা করে স্পষ্টতা, বস্তুগততা ও শৈল্পিক নির্ভুলতার পক্ষে দাঁড়ান। আখমাতোভার কবিতা এই আদর্শের সেরা উদাহরণ হয়ে ওঠে।
উত্থান ও প্রধান সংকলন
১৯১৪ সালে Rosary (Чётки) প্রকাশিত হয় — এটি তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। ১৯১৭ সালে White Flock (Белая стая) বের হয়। এই সময় তাঁর কবিতায় প্রেমের পাশাপাশি যুদ্ধ ও বিপ্লবের ছায়া পড়তে শুরু করে। ১৯১৮ সালে গুমিলিওভের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ১৯২১ সালে গুমিলিওভকে বলশেভিকরা গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড দেয় — এটি আখমাতোভার জীবনে এক গভীর আঘাত।
বিপ্লব, নীরবতা ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা
১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের পর আখমাতোভা রাশিয়ায় থেকে যান। তিনি প্রথমে বিপ্লবকে সমর্থন করলেও পরবর্তীকালে স্তালিনের দমননীতির শিকার হন। ১৯২৫ সাল থেকে তাঁর কবিতা প্রকাশ নিষিদ্ধ হয়। তিনি দারিদ্র্যে দিন কাটান, অনুবাদ ও গবেষণা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তাঁর একমাত্র সন্তান লেভ গুমিলিওভ (জন্ম ১৯১২) ১৯৩০-এর দশকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। ১৯৩৮ সালে লেভকে গ্রেপ্তার করা হলে আখমাতোভা ১৭ মাস ধরে লেনিনগ্রাদের ক্রেস্টি কারাগারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে সন্তানের খোঁজ নেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তাঁর মহাকাব্যিক কবিতা Requiem।
Requiem — স্তালিন সন্ত্রাসের সাক্ষ্য
১৯৩৫–১৯৪০ সালের মধ্যে লেখা Requiem আখমাতোভার শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এটি একটি চক্র — যেখানে তিনি স্তালিনের গ্রেট পার্জ, গুলাগ, মায়েদের যন্ত্রণা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। কবিতাটি দীর্ঘদিন গোপনে মুখস্থ করে রাখা হয়, কারণ লিখে রাখা বিপজ্জনক ছিল। ১৯৬৩ সালে এটি বিদেশে প্রকাশিত হয়।
একটি বিখ্যাত অংশ:
“আর পাথরের শব্দ শোনা গেল,
যেন হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে যাচ্ছে।
আর আমি বুঝতে পারলাম —
আমি এখন একা।”
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পরবর্তী জীবন
১৯৪১ সালে জার্মানি লেনিনগ্রাদ অবরোধ করে। আখমাতোভা অবরোধের সময় শহরে থেকে যান এবং রেডিওতে দেশপ্রেমিক কবিতা পাঠ করেন। পরে তাঁকে তাসখন্দে সরিয়ে নেওয়া হয়। যুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে আন্দ্রেই জ্দানভ তাঁকে “অর্ধ-সন্ন্যাসিনী, অর্ধ-বেশ্যা” বলে আক্রমণ করেন এবং তাঁর কাজ আবার নিষিদ্ধ হয়।
১৯৫০-এর দশকের শেষে স্তালিন-পরবর্তী গলানোর সময় তাঁর কাজ আবার প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৬০-এর দশকে তিনি ইতালি, ইংল্যান্ড ও অন্যান্য দেশে ভ্রমণ করেন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেয়।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
৫ মার্চ ১৯৬৬ সালে মস্কোর কাছে দোমোদেদোভো স্যানিটোরিয়ামে আনা আখমাতোভা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে লেনিনগ্রাদের কমারোভো কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
আখমাতোভার উত্তরাধিকার অপরিসীম। তিনি রাশিয়ান কবিতাকে আধুনিকতার দিকে নিয়ে যান এবং নারীর কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করেন। Requiem বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কবিতাগুলোর একটি। তিনি ছিলেন বরিস পাস্তেরনাক, ওসিপ মান্দেলস্তাম ও মারিনা স্বেতায়েভার সমসাময়িক — যাঁরা সবাই স্বৈরাচারের শিকার হয়েছিলেন।
আজ আখমাতোভা বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সমাদৃত। তাঁর কবিতা প্রমাণ করে যে শব্দের সংক্ষিপ্ততা কতটা শক্তিশালী হতে পারে এবং কবিতা কীভাবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠে।