এমি লোয়েল (Amy Lowell, 1874–1925) ছিলেন আধুনিক ইমেজিজম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান চ্যাম্পিয়ন। তিনি মুক্ত ছন্দ (free unrhymed cadence), প্রাণবন্ত দৃশ্যকল্প এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য চিত্রের জন্য বিখ্যাত। তাঁর কবিতায় প্রায়শই প্রকৃতি, প্রেম, যুদ্ধের যন্ত্রণা এবং নারীর অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
1. বাতাস এবং রূপা (Wind and Silver)
উজ্জ্বলভাবে দীপ্তিময়,
শরতের চাঁদ ভেসে চলেছে পাতলা আকাশে;
আর মাছের পুকুরগুলো পিঠ নাড়ছে এবং ড্রাগনের আঁশের মতো ঝলমল করে উঠছে
যখন সে তাদের উপর দিয়ে অতিক্রম করে যাচ্ছে।
2. ট্যাক্সি (The Taxi)
যখন আমি তোমার কাছ থেকে চলে যাই
পৃথিবী মৃতের মতো ধুকধুক করে
একটি শিথিল ঢোলের মতো।
আমি তোমার জন্য ডাকি জ্বলজ্বলে তারাগুলোর বিরুদ্ধে
এবং চিৎকার করি বাতাসের শিরা-উপশিরায়।
রাস্তাগুলো দ্রুত এগিয়ে আসছে,
একের পর এক,
তোমাকে আমার থেকে সরিয়ে দিচ্ছে,
আর শহরের বাতিগুলো আমার চোখে খোঁচা মারছে
যাতে আমি আর তোমার মুখ দেখতে পারি না।
কেন আমি তোমাকে ছেড়ে যাব,
রাতের ধারালো প্রান্তে নিজেকে আহত করতে?
3. একজন মহিলা (A Lady)
তুমি সুন্দরী এবং বিবর্ণ,
একটি পুরনো অপেরা সুরের মতো
হার্পসিকর্ডে বাজানো;
অথবা অষ্টাদশ শতাব্দীর বৌদ্ধোয়ারের সূর্য-প্লাবিত রেশমের মতো।
তোমার চোখে
জ্বলছে অতীত মিনিটের পতিত গোলাপগুলো,
আর তোমার আত্মার সুবাস
অস্পষ্ট এবং বিস্তৃত,
সিল করা মশলার পাত্রের তীব্র গন্ধের সাথে।
তোমার অর্ধ-স্বরগুলো আমাকে আনন্দ দেয়,
আর তোমার মিশ্রিত রঙের দিকে তাকিয়ে আমি পাগল হয়ে যাই।
আমার প্রাণশক্তি একটি নতুন তৈরি পয়সা,
যা আমি তোমার পায়ের কাছে ছুঁড়ে দিই।
ধুলো থেকে তুলে নাও,
যাতে এর ঝলক তোমাকে আনন্দ দেয়।
4. ভেনাস ট্রান্সিয়েন্স (Venus Transiens)
বলো তো,
ভেনাস কি তোমার চেয়ে বেশি সুন্দরী ছিল
যখন সে কুঁচকানো ঢেউয়ের চূড়ায় উঠে এসেছিল,
তার বোনা শঙ্খের উপর ভেসে তীরের দিকে এগোচ্ছিল?
বোত্তিচেল্লির দৃষ্টি কি আমার চেয়ে সুন্দর ছিল?
আর তার আঁকা গোলাপ-কুঁড়িগুলো কি আমার তোমার জন্য উড়িয়ে দেওয়া কথাগুলোর চেয়ে বেশি মূল্যবান —
যা তোমার অতিরিক্ত সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখে
কুয়াশা-মাখা রূপোর মতো একটি পাতলা আবরণ দিয়ে?
আমার জন্য
তুমি দাঁড়িয়ে আছো নীল ও ভাসমান বাতাসে,
উজ্জ্বল বাতাসে বেষ্টিত,
সূর্যালোকের উপর পা রেখে।
আর তোমার আগে আগে যে ঢেউগুলো আসে
তারা কাঁপিয়ে তোলে
আমার পায়ের নিচের বালি।
5. সন্ধ্যার ফুলের মাদোন্না (Madonna of the Evening Flowers)
সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে গেছি।
ডাকি, “তুমি কোথায়?”
কিন্তু শুধু ওক গাছটাই বাতাসে মর্মর করে।
বাড়িটা খুব নীরব।
সূর্য তোমার বইয়ের উপর,
তোমার কাঁচি আর থিম্বলের উপর আলো ফেলছে —
কিন্তু তুমি নেই।
হঠাৎ একা লাগছে।
তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে দেখি —
তুমি দাঁড়িয়ে আছো ফ্যাকাশে নীল লার্কস্পারের স্পায়ারের নিচে,
হাতে গোলাপের ঝুড়ি নিয়ে।
তুমি শীতল, রূপোর মতো,
আর হাসছো।
আমার মনে হয় ক্যান্টারবেরি বেল ফুলগুলো ছোট ছোট সুর বাজাচ্ছে।
তুমি বলছো পিওনিগুলোর স্প্রে করা দরকার,
কলম্বাইনগুলো সীমা ছাড়িয়ে গেছে,
পাইরাস জাপোনিকা ছাঁটাই করে গোল করে দিতে হবে।
তুমি এসব বলছো।
কিন্তু আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি, রূপোর হৃদয়,
পালিশ করা রূপোর সাদা হৃদয়-অগ্নি,
লার্কস্পারের নীল স্টিপলের নিচে জ্বলছে।
আর আমি চাই তোমার পায়ের কাছে তৎক্ষণাৎ হাঁটু গেড়ে বসতে,
যখন চারপাশে ক্যান্টারবেরি বেল ফুলগুলো জোরে, মিষ্টি তে দেয়ুম গাইছে।
6. চাঁদের আলোয় বাগান (The Garden by Moonlight)
একটি কালো বিড়াল গোলাপের মাঝে,
ফ্লক্স, লাইল্যাক-কুয়াশামাখা প্রথম চতুর্থাংশ চাঁদের নিচে,
হেলিওট্রোপ আর রাত-সুগন্ধী স্টকের মিষ্টি গন্ধ।
বাগান খুব নীরব,
চাঁদের আলোয় বিহ্বল,
সুবাসে তৃপ্ত,
ভাঁজ করা পপির আফিম-স্বপ্ন দেখছে।
ফায়ারফ্লাইয়ের আলো খুলে যায় এবং মিলিয়ে যায়
সোনালি গ্লো-এর টিপ কুঁড়ির মতো উঁচুতে,
আমার পায়ের কাছে মিষ্টি অ্যালিসাম ফুলের মতো নিচুতে।
পাতা ও ট্রেলিসে চাঁদের ঝিলিক,
স্নোবল গাছের মধ্য দিয়ে চাঁদের কাঁটা বিদ্ধ হচ্ছে।
শুধু লেডিজ ডিলাইটের ছোট মুখগুলো সতর্ক ও তাকিয়ে আছে,
শুধু বিড়ালটাই গোলাপের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে
ডাল নাড়িয়ে চেকার করা প্যাটার্ন ভাঙছে
যেমন জল ভাঙে পাতা পড়ার শব্দে।
তারপর তুমি এলে,
আর তুমি বাগানের মতো নীরব,
অ্যালিসাম ফুলের মতো সাদা,
ফায়ারফ্লাইয়ের নীরব স্ফুলিঙ্গের মতো সুন্দর।
প্রিয়, দেখছো সেই কমলা লিলিগুলো?
ওরা আমার মাকে চিনত।
কিন্তু আমি চলে গেলে আমার কোনো আপনজনকে চিনবে কি?
7. সলিটেয়ার (Solitaire)
যখন রাত শহরের রাস্তায় ভেসে আসে,
এবং অসমান ছাদের ফাঁকে চালনি দিয়ে নেমে আসে,
আমার মন উঁকি মারতে আর তাকাতে শুরু করে।
সে খেলে বল নিয়ে পুরনো নীল চীনা বাগানে,
আর ঝাঁকি দেয় তৈরি পাশার পাত্র পৌত্তলিক মন্দিরে,
ভাঙা স্তম্ভের খাঁজের মাঝে।
সে নাচে বেগুনি ও হলুদ ক্রোকাস ফুল মাথায় নিয়ে,
আর তার পা ঝলমল করে ভেজা ঘাসের উপর দিয়ে উড়ে যেতে যেতে।
কত হালকা ও হাস্যোজ্জ্বল আমার মন,
যখন সব ভালো মানুষ তাদের শোবার ঘরের মোমবাতি নিভিয়ে দেয়,
আর শহর নীরব হয়ে যায়!
8. প্যাটার্নস (Patterns)
আমি বাগানের পথ ধরে হাঁটছি,
আর সব ড্যাফোডিল ফুল ফুটে আছে, উজ্জ্বল নীল স্কুইল।
আমি প্যাটার্ন করা বাগানের পথ ধরে হাঁটছি
আমার শক্ত, ব্রোকেড গাউনে।
আমার পাউডার লাগানো চুল আর রত্নখচিত পাখা নিয়ে,
আমিও একটি দুর্লভ প্যাটার্ন।
9. জুলাই মিডনাইট (July Midnight)
(সংক্ষিপ্ত সংস্করণ — মূলের স্বাদে)
রাত গভীর। চাঁদের আলো জানালায় এসে পড়েছে।
আমার হৃদয় জেগে আছে, তোমার কথা ভাবছে।
শহর ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু আমার রক্তে আগুন জ্বলছে।
10. সেপ্টেম্বর, ১৯১৮ (September, 1918)
(সংক্ষিপ্ত সংস্করণ)
যুদ্ধ শেষ হয়েছে।
পাতা ঝরে পড়ছে।
আমি জানি না কীভাবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরব।
সবকিছু এখনো কাঁপছে।
এমি লোয়েল (১৮৭৪–১৯২৫): আধুনিক ইমেজিজমের ভ্যানগার্ড চ্যাম্পিয়ন এবং মুক্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবক্তা
এমি লরেন্স লোয়েল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের সবচেয়ে প্রভাবশালী আমেরিকান কবিদের একজন। তিনি ইমেজিজম আন্দোলনকে আমেরিকায় জনপ্রিয় করে তোলেন, মুক্ত ছন্দ (free verse) ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের (unrhymed cadence) পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং আধুনিক কবিতার প্রচারে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর জীবন ছিল ধনী পরিবারের সন্তান হিসেবে সুযোগ-সুবিধা, সামাজিক সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যের লড়াই, প্রেম ও সৃজনশীলতার অসাধারণ মিশ্রণ। ১৩ বছরের সাহিত্যজীবনে তিনি ৬৫০টিরও বেশি কবিতা, সমালোচনামূলক গ্রন্থ, অনুবাদ ও জন কিটসের বিশাল জীবনী রচনা করেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “Patterns”, “The Taxi”, “Madonna of the Evening Flowers”, “Venus Transiens”, “Wind and Silver” প্রভৃতি আজও পাঠকদের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়।
জন্ম, পরিবার ও শৈশব
৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৪ সালে ম্যাসাচুসেটসের ব্রুকলাইনে সেভেনেলস নামক পারিবারিক এস্টেটে এমি লোয়েল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অগাস্টাস লোয়েল ও ক্যাথরিন বিগেলো লোয়েলের কনিষ্ঠ সন্তান। লোয়েল পরিবার ছিল নিউ ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ব্রাহ্মিন (Boston Brahmin) পরিবার — ধনী, প্রভাবশালী ও বুদ্ধিজীবী। তাঁর চাচাতো ভাই ছিলেন কবি জেমস রাসেল লোয়েল। ভাই পার্সিভাল লোয়েল ছিলেন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী (মঙ্গল গ্রহের খাল নিয়ে গবেষণা), আরেক ভাই অ্যাবট লরেন্স লোয়েল পরবর্তীকালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হন।
শৈশবে এমি ছিলেন স্পষ্টভাষী, মতামতপ্রবণ ও কিছুটা অসামাজিক। মেয়েদের জন্য নির্ধারিত সীমাবদ্ধ শিক্ষা তাঁকে হতাশ করত। তিনি নিজেকে “পুরুষালি” ও “কুৎসিত” বলে মনে করতেন এবং স্কুল জীবনকে যন্ত্রণাদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন। কলেজে পড়ার সুযোগ পাননি — তৎকালীন সমাজে মেয়েদের জন্য তা “অনুপযুক্ত” বলে বিবেচিত হত। পরিবর্তে তিনি সেভেনেলসের বিশাল গ্রন্থাগারে নিজেকে শিক্ষিত করেন, বই সংগ্রহ করেন এবং ইউরোপ ভ্রমণ করেন। এই সময় তিনি জন কিটসের কবিতায় গভীরভাবে অনুরাগী হয়ে ওঠেন — যা পরবর্তীকালে তাঁর কাব্যিক ও সমালোচনামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
কবিতার জগতে প্রবেশ
১৯০২ সালে (বয়স ২৮) ইউরোপে বিখ্যাত অভিনেত্রী এলেনোরা ডিউস-এর অভিনয় দেখে এমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন এবং কবি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯১০ সালে The Atlantic Monthly-এ তাঁর প্রথম কবিতা “Fixed Idea” প্রকাশিত হয়। ১৯১২ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ A Dome of Many-Coloured Glass বের হয়। এটি মূলত ঐতিহ্যবাহী, ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের — কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর সৎ অভিব্যক্তি ও প্রাণবন্ত চিত্রকল্পের আভাস পাওয়া যায়।
১৯১৩ সালে Poetry ম্যাগাজিনে H.D. (Hilda Doolittle)-এর স্বাক্ষরিত “H.D., Imagiste” কবিতা পড়ে তিনি চমকে ওঠেন। তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর নিজের কাব্যভাবনা ইমেজিজমের সঙ্গে মিলে যায়। এই আবিষ্কার তাঁর জীবন বদলে দেয়।
ইমেজিজম আন্দোলন ও নেতৃত্ব
ইমেজিজম ছিল আধুনিকতাবাদী আন্দোলন — যার মূল কথা ছিল “সরাসরি বস্তুর উপস্থাপন”, স্পষ্ট ও কঠিন চিত্রকল্প, সাধারণ ভাষা, নতুন ছন্দ এবং কবিতায় ঘনত্ব (concentration)। এজরা পাউন্ড এই আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। এমি লোয়েল ১৯১৩-১৪ সালে লন্ডনে যান, হ্যারিয়েট মনroe-এর পরিচয়পত্র নিয়ে পাউন্ড, H.D., রিচার্ড অলডিংটন প্রমুখের সঙ্গে দেখা করেন। প্রথমে বন্ধুত্ব হলেও পরে মতবিরোধ দেখা দেয়।
১৯১৪ সালে পাউন্ড আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান এবং লোয়েলের নেতৃত্বাধীন আমেরিকান ইমেজিস্টদের “Amygism” বলে উপহাস করেন। লোয়েল তখন দায়িত্ব নেন এবং ১৯১৫, ১৯১৬ ও ১৯১৭ সালে Some Imagist Poets নামে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন সম্পাদনা করেন। তিনি ইমেজিজমের নীতিমালা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন:
- সাধারণ কথ্য ভাষা ব্যবহার
- নতুন ছন্দ সৃষ্টি
- বিষয়ের স্বাধীনতা
- স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট চিত্র
- কঠিন ও স্বচ্ছ কবিতা
- কবিতায় ঘনত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
তিনি “unrhymed cadence” বা মুক্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেন — যা প্রাকৃতিক বক্তৃতার ছন্দের উপর ভিত্তি করে, মিটারের উপর নয়। এছাড়া তিনি “polyphonic prose” নামে এক নতুন গদ্য-কাব্যিক রূপ চালু করেন (Can Grande’s Castle গ্রন্থে)।
সাহিত্যকর্ম ও শৈলীগত উদ্ভাবন
এমি লোয়েলের কবিতায় প্রকৃতির সূক্ষ্ম চিত্র, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা, প্রেম, যুদ্ধের যন্ত্রণা ও নারীর অভিজ্ঞতা প্রধান। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- Sword Blades and Poppy Seed (১৯১৪) — ব্রেকথ্রু গ্রন্থ; “Patterns” ও “The Taxi” এখানে আছে।
- Men, Women and Ghosts (১৯১৬)
- Can Grande’s Castle (১৯১৮) — পলিফোনিক গদ্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন
- Pictures of the Floating World (১৯১৯) — জাপানি-চীনা প্রভাব; প্রেমের কবিতা (“Two Speak Together” সিরিজ)
- Legends (১৯২১) — বিশ্বের বিভিন্ন পুরাণ থেকে অনুপ্রাণিত
- What’s O’Clock (১৯২৫, মরণোত্তর) — “Lilacs” সহ; ১৯২৬ সালে পুলিৎজার পুরস্কার
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ: Six French Poets (১৯১৫), Tendencies in Modern American Poetry (১৯১৭), চীনা কবিতার অনুবাদ Fir-Flower Tablets (১৯২১, ফ্লোরেন্স আইসকাফের সঙ্গে), জন কিটসের দুই খণ্ডের জীবনী (১৯২৫) এবং ব্যঙ্গাত্মক A Critical Fable (১৯২২)।
তাঁর কবিতায় চিত্রকল্প অসাধারণ — যেমন “Wind and Silver”-এ শরতের চাঁদ ও মাছের পুকুরের ড্রাগন-আঁশের মতো ঝলমলানি, অথবা “Madonna of the Evening Flowers”-এ সন্ধ্যার বাগান ও প্রেমিকার রূপোর মতো শীতল সৌন্দর্য। “Patterns” কবিতায় যুদ্ধ ও সামাজিক বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেম
এমি লোয়েল কখনো বিয়ে করেননি। ১৯১২ সাল থেকে তিনি অভিনেত্রী অ্যাডা ডোয়ার রাসেলের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে আবদ্ধ হন — যা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত (১৯২৫) স্থায়ী ছিল। অ্যাডা ছিলেন তাঁর সচিব, সহচর, সমালোচক এবং প্রধান মিউজ। সেভেনেলসে একসঙ্গে বাস করতেন। অনেক প্রেমের কবিতা (“Madonna of the Evening Flowers”, “The Taxi”, “A Lady”, “In a Garden”, “Two Speak Together” সিরিজ) অ্যাডাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। যুগের সামাজিক নিয়মের কারণে সম্পর্কটি কিছুটা গোপন রাখা হত; অ্যাডা পরবর্তীকালে অনেক চিঠি ধ্বংস করে দেন।
ব্যক্তিগতভাবে এমি ছিলেন অসাধারণভাবে উজ্জ্বল ও unconventional — সিগার খেতেন, পুরুষালি পোশাক পরতেন, নাটকীয়ভাবে কবিতা পাঠ করতেন ও বক্তৃতা দিতেন। ধনী হওয়ায় তিনি অন্যান্য লেখকদের আর্থিকভাবে সাহায্য করতেন।
শেষ জীবন, মৃত্যু ও মরণোত্তর স্বীকৃতি
১৯২০-এর দশকে গ্রন্থি সমস্যার কারণে তাঁর ওজন বাড়ে এবং হার্নিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ১৯২৫ সালের মে মাসে তীব্র হার্নিয়া আক্রমণের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে বিছানা থেকে উঠলে স্ট্রোক হয়। ১২ মে ১৯২৫ সালে মাত্র ৫১ বছর বয়সে সেভেনেলসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মাউন্ট অবার্ন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
মৃত্যুর পর অ্যাডা রাসেল What’s O’Clock, East Wind ও Ballads for Sale সম্পাদনা করেন। What’s O’Clock ১৯২৬ সালে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করে।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
এমি লোয়েল আধুনিক কবিতাকে আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেন। তিনি ভিক্টোরিয়ান কাব্যের অতিরঞ্জিত ভাষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্পষ্টতা, ঘনত্ব ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার পক্ষে কথা বলেন। তাঁর “unrhymed cadence” ও পলিফোনিক গদ্য পরবর্তী কবিদের প্রভাবিত করে।
নারীবাদী ও কুইয়ার স্টাডিজে তাঁর পুনর্মূল্যায়ন ঘটেছে — “Patterns”-এ যুদ্ধবিরোধী ও নারীর স্বাধীনতার প্রতিধ্বনি, প্রেমের কবিতায় এনকোডেড লেসবিয়ান থিম। তিনি ছিলেন “নতুন মুক্ত নারীর” প্রতীক — সীমাবদ্ধতা ভেঙে নিজের ক্ষমতায় বিশ্বাস রাখা একজন নারী।
আজও এমি লোয়েলের কবিতা পাঠকদের মনে জীবন্ত — তাঁর চিত্রকল্পের ঝলক, মুক্ত ছন্দের স্বাভাবিকতা ও মানবিক আবেগের গভীরতা অম্লান। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, ছিলেন আন্দোলনের নেতা, প্রচারক ও আধুনিকতার সাহসী অগ্রদূত।