কবিতার আড্ডাখানা

আর্থার ওয়েলি (Arthur Waley, ১৮৮৯–১৯৬৯): ১৯১৮ সালে free-verse অনুবাদের মাধ্যমে পশ্চিমে শাস্ত্রীয় এশীয় কবিদের পরিচয় করানো অনুবাদক

আর্থার ওয়েলি ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ পণ্ডিত, অনুবাদক ও প্রাচ্যবিদ। তিনি চীনা ও জাপানি সাহিত্যের অনুবাদের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বে প্রাচ্যের শাস্ত্রীয় সাহিত্যকে জনপ্রিয় করেন। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর A Hundred and Seventy Chinese Poems বইটি free-verse অনুবাদের মাধ্যমে চীনা কবিতার সৌন্দর্য ও দার্শনিক গভীরতা পশ্চিমা পাঠকদের কাছে তুলে ধরে। তিনি মূলত অনুবাদক; তাঁর কাজগুলো স্পষ্ট, সুন্দর ও আক্ষরিকতার কাছাকাছি।

1. লাল ককাটু (The Red Cockatoo) — পো চু-ই (Po Chü-i)

আননাম থেকে উপহার পাঠানো হয়েছে—
একটি লাল ককাটু।
পীচ গাছের ফুলের মতো রঙিন,
মানুষের ভাষায় কথা বলে।

আর তারা তার সঙ্গে তাই করেছে
যা সবসময় শিক্ষিত ও বাগ্মীদের সঙ্গে করা হয়।
তারা শক্ত খাঁচা দিয়ে তাকে বন্দী করেছে
এবং ভেতরে আটকে রেখেছে।

2. সোনালি ঘণ্টার স্মৃতি (Remembering Golden Bells) — পো চু-ই

ধ্বংসপ্রাপ্ত ও অসুস্থ—চল্লিশ বছরের একজন মানুষ;
সুন্দরী ও নির্দোষ—তিন বছরের একটি মেয়ে।
ছেলে নয়—তবু কিছুই না হওয়ার চেয়ে ভালো:
মনকে শান্ত করতে—মাঝে মাঝে একটি চুমু!

একদিন হঠাৎ তারা তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে গেল;
তার আত্মার ছায়া কোথায় ঘুরে বেড়ায় জানি না।
আর যখন মনে পড়ে, ঠিক যখন সে মারা যাচ্ছিল
সে অদ্ভুত শব্দ বকবক করছিল, কথা বলতে শিখছিল—

তখন বুঝি, মাংস ও রক্তের বন্ধন
শুধু দুঃখ ও যন্ত্রণার বোঝা বাঁধে।
শেষ পর্যন্ত, তার জন্মের আগের সময়ের কথা ভেবে,
চিন্তা ও যুক্তি দিয়ে ব্যথা দূর করে দিলাম।

যেহেতু আমার হৃদয় তাকে ভুলে গেছে, অনেক দিন কেটে গেছে
আর তিনবার শীত বসন্তে রূপান্তরিত হয়েছে।
আজ সকালে, একটুক্ষণের জন্য পুরনো দুঃখ ফিরে এল,
কারণ রাস্তায় তার দুধ-মায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে।

3. সোনালি ঘণ্টা (Golden Bells) — পো চু-ই

যখন আমার বয়স প্রায় চল্লিশ,
আমার একটি মেয়ে ছিল, তার নাম সোনালি ঘণ্টা।
এখন তার জন্মের ঠিক এক বছর হয়েছে;
সে বসতে শিখছে, কিন্তু এখনো কথা বলতে পারে না।

লজ্জিত—যে আমার হৃদয় ঋষির মতো নয়:
আমি সাধারণ চিন্তা ও অনুভূতি প্রতিরোধ করতে পারি না।
এখন থেকে আমি বাইরের জিনিসের সঙ্গে বাঁধা;
আমার একমাত্র পুরস্কার—যে আনন্দ এখন পাচ্ছি।

যদি তার অল্প বয়সে মারা যাওয়ার দুঃখ থেকে রক্ষা পাই,
তাহলে তার বিয়ের ঝামেলা পোহাতে হবে।
পাহাড়ে ফিরে যাওয়ার ও অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা
এখন পনেরো বছরের জন্য স্থগিত রাখতে হবে!

4. শরতের বাতাস (The Autumn Wind) — উ-তি (Wu-ti)

শরতের বাতাস উঠেছে: সাদা মেঘ উড়ছে।
ঘাস ও গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে: হাঁস দক্ষিণে যাচ্ছে।
অর্কিড সব ফুটেছে: ক্রাইস্যান্থেমাম মিষ্টি গন্ধ ছড়াচ্ছে।
আমি আমার সুন্দরী স্ত্রীর কথা ভাবছি: কখনো ভুলতে পারি না।

ভাসমান-প্যাগোডা নৌকা ফেন নদী পার হচ্ছে।
মাঝ-স্রোতে সাদা ঢেউ উঠছে।
বাঁশি ও ঢোল সারিবদ্ধ গানের সঙ্গে তাল মিলাচ্ছে;
উৎসব ও ভোজের মাঝে দুঃখের চিন্তা আসে;
যৌবনের বছর কত কম! বার্ধক্য কত নিশ্চিত!

5. চিরকালীন ভুল (The Everlasting Wrong — excerpt) — পো চু-ই

পীচ-ফুল ঝরে পড়ছে,
উইলো-ফুল ঝরে পড়ছে,
বসন্তের ফুল ঝরে পড়ছে,
বসন্তের পাতা ঝরে পড়ছে।

পীচ-ফুল ঝরে পড়ে আর পীচ খালি হয়ে যায়,
উইলো-ফুল ঝরে পড়ে আর উইলো খালি হয়ে যায়।
বসন্তের ফুল ঝরে পড়ে আর বাগান খালি হয়ে যায়,
বসন্তের পাতা ঝরে পড়ে আর গাছ খালি হয়ে যায়।

পীচ খালি হয়ে যায় আর পীচ মরে যায়,
উইলো খালি হয়ে যায় আর উইলো মরে যায়।
বাগান খালি হয়ে যায় আর বাগান মরে যায়,
গাছ খালি হয়ে যায় আর গাছ মরে যায়।

কিন্তু পীচ-ফুল ঝরে পড়ছে,
উইলো-ফুল ঝরে পড়ছে,
বসন্তের ফুল ঝরে পড়ছে,
বসন্তের পাতা ঝরে পড়ছে।

6. চাঁদের আলোয় একা পান করা (Drinking Alone by Moonlight) — পো চু-ই (ওয়েলির শৈলীতে)

চাঁদ আজ রাতে উজ্জ্বল,
চাঁদ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার।
আমি একা বসে পান করি,
আমি একা বসে একা পান করি।

চাঁদ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার,
চাঁদ উজ্জ্বল ও উঁচু।
আমি একা বসে পান করি,
আমি একা বসে একা পান করি।

চাঁদ উজ্জ্বল ও উঁচু,
চাঁদ উজ্জ্বল ও দূরে।
আমি একা বসে পান করি,
আমি একা বসে একা পান করি।

7. লি লিং-এর বিদায় (Li Ling — Parting from Su Wu) — লি লিং

ভালো সময় আর কখনো ফিরে আসবে না:
এক মুহূর্তে—আমাদের বিদায় শেষ হয়ে যাবে।

আমার বৃদ্ধ মা অনেকদিন আগে মারা গেছে।
যদিও আমি আমার রাজপুত্রকে প্রতিদান দিতে চাই
কীভাবে ফিরব?

8. হসি-চুনের বিলাপ (Lament of Hsi-chün)

আমার হৃদয় ভেতরে দুঃখিত।
আমি যদি একটি হলুদ সারস হতাম
আর আমার পুরনো বাড়িতে উড়ে যেতে পারতাম!

9. ছিন চিয়ার স্ত্রীর উত্তর (Ch’in Chia’s Wife’s Reply)

আমার দরিদ্র শরীর দুর্ভাগ্যবশত অযোগ্য:
… (বিদায়ের বেদনা ও আকাঙ্ক্ষার কথা)

10. পূর্বের পথে (Song) — সুং তজু-হাউ

লো-ইয়াং শহরের পূর্বের পথে
রাস্তার ধারে পীচ ও বরই গাছ জন্মে;
… (জীবনের ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য ও বিচ্ছেদের অনুভূতি)

আর্থার ওয়েলি (Arthur Waley, ১৮৮৯–১৯৬৬): ১৯১৮ সালের free-verse অনুবাদ যা পশ্চিমে শাস্ত্রীয় এশীয় সাহিত্যের দ্বার খুলে দিয়েছিল

আর্থার ডেভিড ওয়েলি (জন্মনাম আর্থার ডেভিড শ্লস) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী ব্রিটিশ পণ্ডিত, অনুবাদক ও প্রাচ্যবিদ। তিনি চীনা ও জাপানি সাহিত্যের অনুবাদের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বকে শাস্ত্রীয় এশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বই A Hundred and Seventy Chinese Poems free-verse অনুবাদের মাধ্যমে চীনা কবিতার সৌন্দর্য, দার্শনিক গভীরতা ও সরলতা পশ্চিমা পাঠকদের কাছে তুলে ধরে। এরপর তিনি জাপানি সাহিত্যের মহাকাব্য The Tale of Genji (৬ খণ্ড, ১৯২৫–১৯৩৩) অনুবাদ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

ওয়েলি শুধু অনুবাদক ছিলেন না — তিনি ছিলেন একজন সেতু নির্মাতা, যিনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর অনুবাদগুলো স্পষ্ট, সুন্দর ও আক্ষরিকতার প্রতি অনুগত ছিল, যা তৎকালীন পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। তিনি কখনো চীন বা জাপান সফর করেননি, কিন্তু তাঁর অসাধারণ ভাষাজ্ঞান ও সংবেদনশীলতা তাঁকে এশীয় সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দূত করে তুলেছিল।

জন্ম, পারিবারিক পটভূমি ও শৈশব

১৯ আগস্ট ১৮৮৯ সালে ইংল্যান্ডের কেন্টের টানব্রিজ ওয়েলসে আর্থার ডেভিড শ্লস জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ডেভিড ফ্রেডেরিক শ্লস ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, আর মা র‍্যাচেল (née Waley) ছিলেন একটি সম্ভ্রান্ত ইহুদি পরিবারের সন্তান। পরিবারে ছিল তিন সন্তান; আর্থার ছিলেন মেজো। ১৯১৪ সালে তিনি মায়ের পদবি “ওয়েলি” গ্রহণ করেন।

শৈশবে তিনি খুবই বুদ্ধিমান ও সংবেদনশীল ছিলেন। রাগবি স্কুলে পড়াশোনা করার সময় তিনি ক্লাসিক্যাল সাহিত্য (গ্রিক ও লাতিন) ও দর্শনে গভীর আগ্রহ দেখান। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (কিংস কলেজ) ভর্তি হলেও স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে পূর্ণ ডিগ্রি নিতে পারেননি। এই সময় তিনি চীনা ও জাপানি ভাষা শেখার প্রতি আকৃষ্ট হন — মূলত নিজে নিজে, বই ও অভিধানের সাহায্যে।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রবেশ ও ভাষা শিক্ষা

১৯১৩ সালে ওয়েলি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ওরিয়েন্টাল প্রিন্টেড বুকস অ্যান্ড ম্যানুস্ক্রিপ্টস বিভাগে সহকারী হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি চীনা ও জাপানি পাণ্ডুলিপি ও বইয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। এই সময় তিনি নিজে নিজে চীনা ভাষা আয়ত্ত করেন — প্রথমে ক্লাসিক্যাল চীনা, পরে আধুনিক চীনা। জাপানি ভাষাও তিনি শেখেন।

তাঁর শিক্ষা ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন — কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই। তিনি প্রাচীন চীনা কবিতা, দর্শন (কনফুসিয়াস, লাওৎসে, চুয়াংৎসে) ও জাপানি সাহিত্য গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। এই সময় তিনি ব্লুমসবারি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন — যেখানে ছিলেন ভার্জিনিয়া উলফ, লিটন স্ট্র্যাচি প্রমুখ। এই বুদ্ধিজীবী মহল তাঁর চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে।

১৯১৮: চীনা কবিতার অনুবাদ ও পশ্চিমা আলোড়ন

১৯১৮ সালে ওয়েলির প্রথম বড় কাজ A Hundred and Seventy Chinese Poems প্রকাশিত হয়। এই বইটি পশ্চিমা সাহিত্যজগতে বিপ্লব ঘটায়। তিনি চীনা কবিতাকে free verse-এ অনুবাদ করেন — যা তৎকালীন পণ্ডিতদের (যারা literal prose অনুবাদ পছন্দ করতেন) মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে।

তাঁর অনুবাদের বৈশিষ্ট্য ছিল:

  • আক্ষরিকতার প্রতি আনুগত্য (imagery সংরক্ষণ)
  • সুন্দর, স্বাভাবিক ইংরেজি গদ্য-কাব্য
  • মূলের দার্শনিক ও আবেগীয় সারমর্ম তুলে ধরা

বইটিতে ছিল প্রাচীন চীনা কবিতা (Han dynasty থেকে Tang dynasty পর্যন্ত), বিশেষ করে পো চু-ই (Bai Juyi), লি পো (Li Bai) ও তু ফু (Du Fu)-এর কবিতা। “The Red Cockatoo”, “Remembering Golden Bells”, “Drinking Alone by Moonlight” প্রভৃতি অনুবাদ পাঠকদের মুগ্ধ করে। এই বই পশ্চিমে চীনা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ জাগায় এবং আধুনিকতাবাদী কবিদের (যেমন Ezra Pound) প্রভাবিত করে।

জাপানি সাহিত্যের অনুবাদ ও মহাকাব্যিক কাজ

১৯১৯ সালে তিনি Japanese Poetry: The Uta প্রকাশ করেন। এরপর ১৯২১ সালে The No Plays of Japan। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তি The Tale of Genji (১৯২৫–১৯৩৩) — মুরাসাকি শিকিবুর একাদশ শতাব্দীর জাপানি মহাকাব্যের ৬ খণ্ডের অনুবাদ। এটি পশ্চিমা পাঠকদের কাছে জাপানি সংস্কৃতি ও সাহিত্যের দ্বার খুলে দেয়।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ:

  • The Pillow Book of Sei Shōnagon (১৯২৮)
  • Monkey (Journey to the West-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, ১৯৪২)
  • The Analects of ConfuciusTao Te Ching এর অনুবাদ

তাঁর অনুবাদ পদ্ধতি ছিল “literal yet readable” — তিনি মূলের চিত্রকল্প ও সুর সংরক্ষণ করতেন, কিন্তু পশ্চিমা পাঠকের জন্য সহজবোধ্য রাখতেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক

ওয়েলি কখনো বিয়ে করেননি। তিনি দীর্ঘদিন মায়ের সঙ্গে বাস করতেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল নৃত্যশিল্পী ও লেখক বেরিল ডি জোয়েতের সঙ্গে (১৯১৮ থেকে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত)। তিনি সমকামী সম্পর্কেও জড়িত ছিলেন। ব্লুমসবারি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি ভার্জিনিয়া উলফ, ই.এম. ফরস্টার প্রমুখের সঙ্গে মেলামেশা করতেন।

তিনি খুবই লাজুক ও নির্জনপ্রিয় ছিলেন। স্বাস্থ্য সমস্যা (চোখের সমস্যা) তাঁকে সারাজীবন ভোগাত। তিনি কখনো চীন বা জাপান যাননি — সবকিছু বই, পাণ্ডুলিপি ও কল্পনা থেকে তৈরি করেছিলেন।

শেষ জীবন, সম্মান ও মৃত্যু

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে কাজ চালিয়ে যান। যুদ্ধের পর তিনি আরও অনুবাদ করেন এবং প্রাচ্য দর্শন নিয়ে লেখেন (Three Ways of Thought in Ancient China, ১৯৩৯)। ১৯৫০-এর দশকে তিনি অবসর নেন।

তিনি ব্রিটিশ একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন এবং অনেক সম্মানসূচক ডিগ্রি পান। ১৯৬৬ সালের ২৭ জুন লন্ডনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উত্তরাধিকার ও প্রভাব

আর্থার ওয়েলির অনুবাদ পশ্চিমা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তাঁর free-verse পদ্ধতি আধুনিক কবিতাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি চীনা ও জাপানি সাহিত্যকে “exotic” থেকে “accessible” করে তোলেন। আজও তাঁর অনুবাদ (বিশেষ করে Genji ও চীনা কবিতা) পুনর্মুদ্রিত হচ্ছে এবং পঠিত হচ্ছে।

তিনি প্রমাণ করেছেন যে অনুবাদ শুধু ভাষার রূপান্তর নয় — এটি সংস্কৃতির সেতুবন্ধন। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম।

Leave a Comment